jaago volunteer
28 Jun 2020

ভলন্টিয়ার ফর বাংলাদেশের জুন মাসের কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ

করোনাভাইরাসের আক্রমনের কারনে বিশ্বব্যাপী যে মহামারী দেখা দিয়েছে, তা নিরসন করতে বাংলাদেশের যে সকল যুব সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম এবং অগ্রগামী ভুমিকা রেখেছে জাগো ফাউন্ডেশনের যুব শাখা, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ। তাদের কিছু উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ  

 

ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় ভিবিডি সাতক্ষীরা

 

volunteer for BD

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারনে সাতক্ষীরা জেলার উপকূলবর্তী আশাশানি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়েছিল। সাইক্লোন শেল্টার এবং স্কুলগুলো ভর্তি মানুষ। সহায় সম্বলহীন মানুষের আশ্রয় তখন বেড়িবাঁধ। ঝড়বৃষ্টির পর সেটাও কঠিন হয়ে গিয়েছিল, করতে হচ্ছিল মানবেতর জীবন-যাপন। তাদের পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল না কোনো ত্রাণ, কোন সাহায্য। একমাত্র নৌকা ছাড়া যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই সেখানে। এমনকি পান করার মতো পানির অভাবে ভুগেছে সেখানকার মানুষ।

এমতাবস্থায় অসহায় মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি)। ভিবিডি চট্টগ্রাম, ভিবিডি খুলনা, ভিবিডি ঢাকা এবং ভিবিডি ময়মনসিংহ জেলার স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ভিবিডি সাতক্ষীরা জেলার স্বেচ্ছাসেবকেরা বন্যা দুর্গত পরিবারের মধ্যে নিরাপদ পানি সরবরাহ করে। এছাড়াও বিতরণ করা হয়েছে প্রাথমিক ঔষধ এবং খাবার স্যালাইন।

 

ভিবিডি ময়মনসিংহ জেলার “Take Responsibility, Save A Family” কার্যক্রম  

 

relief by jaagoকরোনার প্রকোপ এবং লকডাউন, অসহায়- হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে প্রতিনিয়তই তৈরি করেছে আতঙ্ক এবং সাথে জীবিকা মন্দা। এদিকে অনেকের ঘরে নেই বেঁচে থাকার মত সামান্য খাদ্য।

বিগত মে থেকে শুরু করে ভিবিডি ময়মনসিংহ জেলার “Take Responsibility, Save A Family” প্রজেক্টটি অসহায়-দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় খাদ্যের সমস্যা দূরীকরণের কাজ করেছে। স্পন্সর এবং ভলান্টিয়ারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বেশ কিছু অসহায় পরিবারের কয়েকশো মানুষের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে তা ঘরে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। 

“Take Responsibility, Save A Family” প্রজেক্টটিতে মহানুভব স্পন্সররা সর্বনিম্ন ৳৭০০ অনুদানের মাধ্যমে ১টি অসহায় পরিবারের কিছুদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর যোগান দিয়েছেন। পাশাপাশি ভিবিডি ময়মনসিংহ জেলার উদ্যমী কয়েকজন ভলান্টিয়ার নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিজেরা বাজার করে সেসব অসহায় পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

relief by jaagoখাদ্যের অভাবে অসহায় পরিবারগুলো যেন অভুক্ত না থাকে সেটি সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিদের সহযোগিতার মাধ্যমে নিশ্চিত করাই ছিলো ভিবিডি ময়মনসিংহ জেলার প্রধান লক্ষ্য। ধন্যবাদ সেই সকল মানুষদের যারা এই সংকটকালে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে ভিবিডি ময়মনসিংহের ভলান্টিয়ারদের উদ্যোগে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর পাশে দাড়িয়েছেন। আশা করছি তারা তাদের নিরলস সাধনা এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং সামনের দিনগুলোতে সমাজের আরো মানুষ তাদের এই মহৎ কাজের সাথে যোগ দিবে।

 

করোনা মোকাবেলায় দেশব্যাপী ২৬টি জেলায় ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকদের অবদান  

 

relief by jaagoপ্রাথমিকভাবে, কোভিড ১৯ যখন দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ,  বাংলাদেশের প্রথম সংগঠন যারা দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছিল যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফেস মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবানের মতো স্বাস্থ্যকর এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছিল। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার নিবেদিত তরুণ সেচ্ছাসেবকেরা এগিয়ে এসেছিলো মানুষকে সচেতন করতে।   

 

jaago volunteerকিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশও খারাপ হওয়ায়, গত মার্চ মাস থেকে এদেশে আংশিক লকডাউন জারি করা হয় এবং নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের উপর। কিন্তু,  লকডাউনের সময়ে, এই  নিবেদিত ও সাহসী যুবকরা এগিয়ে এসে বাংলাদেশের ২৬  টি জেলাতে খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর  সামগ্রী বিতরণ করে প্রায় এক লক্ষ পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।  ২৬ টি ভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা এসব খাদ্য বিতরণ এবং সচেতনতামুলক প্রচারণা চালিয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, সহ আরো অনেকগুলো জেলার স্বেচ্ছাসেবকরা সকল বাঁধা পেরিয়ে ছিন্নমুল মানুষের জন্য এগিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয়, আমাদের গ্রাম বাংলার কৃষক যখন নাজেহাল পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়েছে, তখন আমাদের সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া জেলার তরুণরা এগিয়ে এসে তাদের ফসল ঘরে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। 

এছাড়াও, এই কঠিন সময়ে ঘরে ঘরে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের ময়মনসিংহ জেলার তরুণরা গড়ে তুলেছে টেলিমিডিসিন সেবার হটলাইন, যেখানে ২৪ ঘন্টা তারা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে একটি ফোন কলের মাধ্যমেই। লকডাউনে হয়ত আমরা গৃহবন্দী, তবে তারা বাইরে সক্রিয়ভাবে তাদের ভূমিকা পালন করেছে এবং করে যাবে। তাদের এই প্রচেষ্টা আমাদের আশার আলো দেখায় এবং এই সঙ্কটের পর আরও উন্নত একটি পৃথিবীর  স্বপ্ন দেখায়।